সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রধান আসামি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধা এবং তার কর্মীদের মারধরের অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ১৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে আহাদ নামে রুমিন ফারহানার এক কর্মী বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৪০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন রুমিন ফারহানা। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, একুশের প্রথম প্রহরে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে বাধা দেন। আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন রুমিন ফারহানার সমর্থকরা। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকে এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।