বাংলাদেশের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণ স্থানীয় সরকারের অন্যতম শীর্ষ জনপ্রতিনিধি। বর্তমান ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্স অনুযায়ী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা সরকারি প্রোটোকলে সাধারণত যুগ্ম সচিব পদমর্যাদা বা সিনিয়র সচিব/সচিবের নিচে তবে জেলা প্রশাসকের উপরে একটি বিশেষ অবস্থানে থাকেন।
অবশ্য তারা এমপি বা উপমন্ত্রীর সমপর্যায়ের দাবি জানিয়ে আসছেন, যা এখনও পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি।
দায়িত্ব: জেলা পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত থাকে।
মেয়াদ: ৫ বছর।
বিশেষ নোট: পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের উপমন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, কিন্তু সাধারণ জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে এই মর্যাদা এখনও কার্যকর নয়।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হলেন জেলার স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ স্তরের প্রধান নির্বাহী। তিনি পরিষদের কার্যাবলী পরিচালনা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনিক বিষয়াদি তত্ত্বাবধান করেন । এছাড়া, জেলার সার্বিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কমিটির কাজের সমন্বয় সাধন তাঁর প্রধান ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রধান ক্ষমতা ও দায়িত্বসমূহ:
কার্যক্রম ও প্রশাসন:
পরিষদের কার্যাবলী পরিচালনা, তত্ত্বাবধান এবং পরিষদ কর্তৃক গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা ।
উন্নয়ন পরিকল্পনা: জেলার উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেওয়া ।
আর্থিক নিয়ন্ত্রণ:বাজেট প্রস্তুত, অনুমোদন এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ।
সমন্বয় সাধন: জেলার আওতাধীন উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসমূহের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা ।
অবকাঠামো ও জনসেবা:রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, এবং জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো জনসেবামূলক কাজ তদারকি করা ।
কমিটি গঠন:কাজের সহায়তার জন্য স্থায়ী কমিটি গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করা ।
আইন-শৃঙ্খলা:
স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া। জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ (সংশোধিত) অনুযায়ী তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ।
রেড বাংলা নিউজ পরিবারের পক্ষে— শুভেচ্ছা ও অভিন্দন নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক নেতৃবৃন্দদেরকে।