পৃথিবীর সবচেয়ে বেস্ট এয়ার ডিফেন্স হচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার, এটা ইরানিরা কয়েক যুগ আগেই বুঝে গিয়েছিলো।
এবং পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হচ্ছে, কম দামি কিন্তু হাই কোয়ালিটির মিসাইল ও ড্রোন, এটাও ইরানিরা কয়েক যুগ আগেই বুঝে গিয়েছিলো।
এই যে আমরা আফসোস করি, শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স লাগবে, অত্যাধুনিক ফাইটার জেট লাগবে—আদতে এগুলো যে খুব বেশি ইফেক্টিভ না, বিশেষ করে শক্তিশালী শত্রুর বিবেচনায়—এটা ইরানিরা প্রমাণ করে দিয়েছে এই যুদ্ধে।
ইরানিরা ডিফেন্স হিসেবে নিয়েছে তাদের ভৌগোলিক সুবিধা, ও পাহাড়ের তলদেশে বিশাল বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড সিটি। এগুলোর বেশির ভাগ’ই ৮০-১০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। কিছু কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্যাসিলিটির গভীরতা প্রায় আধা কিলোমিটারের ও বেশি (৫০০ মিটারেরও বেশি)।
এই আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেখানে আছে হাসপাতাল, কিচেন, ল্যাবরেটরি, মিসাইল-ড্রোন বানানোর কারখানা ও স্টোরেজের ব্যবস্থা, এমনকি আন্ডারগ্রাউন্ড থেকেই মিসাইল লঞ্চ করার ব্যবস্থা।
তাই বলা হয়ে থাকে, ইরানের ভেতরেই আরেকটা ইরান আছে।
এগুলো ধ্বংস করতে পারবে, পৃথিবীতে এমন বোমা এখনো তৈরি হয়নি। আমেরিকার হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী বাংকার বাস্টার বোমা হচ্ছে GBU-57 Massive Ordnance Penetrator (MOP)। এটাও মাত্র ২০০ ফুট বা ৬০ মিটার গভীরে যেতে পারে। শক্ত পাথরের পাহাড়ে, পুরোপুরি ২০০ ফুট গভীরে ও যেতে পারে না।
ধরুন, আন্ডারগ্রাউন্ড সিটির গেট লক্ষ্য করে বোমা মারা হলো, তাহলে ও আরো অনেকগুলো গেট অক্ষত থাকবে। বোমা একটা নির্দিষ্ট এলাকা ধ্বংস করতে পারলেও পুরো সিটি ধ্বংস করতে পারবে না। এভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে।
ইরান মিসাইল ও ড্রোনের ক্ষেত্রে বেছে নিয়েছে কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটি —মানে এত বেশি সংখ্যক বানাও যে, শত্রুর অস্ত্র ফুরিয়ে গেলেও তোমার হাতে অস্ত্রের মজুদ থাকে।
ইরান এই যুদ্ধে অনেক দামি দামি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম—৪টা থাড, অনেকগুলো প্যাট্রিয়ট—নষ্ট করে দিয়েছে। তারা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এগুলো ১০০% কার্যকর নয়।
আমেরিকান সফিস্টিকেটেড যুদ্ধবিমান B2, F-35 এসে দামি দামি টমাহক মিসাইল ও বোমা মারছে সিভিলিয়ানদের উপর। চায়না থেকে আনা প্লাস্টিকের ডিকয় নষ্ট করছে। সামরিক টার্গেটই খুঁজে পাচ্ছে না।
এসব ইরান কয়েক যুগ আগেই স্টাডি করেছিলো। তারা দামি যুদ্ধবিমান, রাডার ও এয়ার ডিফেন্সের বদলে বেছে নিয়েছিলো আন্ডারগ্রাউন্ড ডিফেন্স টেকনিক, ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তি। আর তারা এগুলোতেই বেশি ইনভেস্ট করেছে।
তাই তারা কম দামে বিশ্বের সেরা মিসাইল ও ড্রোন বানাতে পারে,এবং অনেক বেশি সংখ্যক বানাতে পারে।
আজকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভালোভাবেই জানে—ইরানে গ্রাউন্ড ইনভেশন করা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটা হবে ভিয়েতনাম থেকেও ভয়ংকর। এছাড়া ও এই যুদ্ধ আকাশ থেকে জেতাও সম্ভব নয়। তাদের মিসাইল ও বোমার ভান্ডারও ফুরিয়ে আসছে।
এখন পালানোর পথ খুঁজতে রাশিয়ার দ্বারস্থ হয়েছে।