🇧🇩 মোঃ সাইফুদ্দিন জিয়া, সম্পাদক ও প্রকাশক, রেড বাংলা নিউজ 🇧🇩
Update :
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
Share
*** সম্পাদকীয় কলামে ***
সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ সাইফুদ্দিন জিয়া
রেড বাংলা নিউজঃ
মৃত্যুর পূর্বে হেডকোয়ার্টারে ফোন করে বলেছিল—
“হ্যালো হেডকোয়ার্টার, আমি কর্নেল গুলজার বলছি।
দুইটা ফোর্স পাঠান প্লিজ। ওরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।”? এর ঠিক ৪০ মিনিট পর ছিল তার শেষ আকুতি— “অনেক অফিসারের লাশ মেঝেতে পড়ে আছে। আপনারা কি আসবেন না আমাদের বাঁচাতে?”
২০০৪-০৫ সালে যখন জেএমবি সারা দেশে নৈরাজ্য তৈরি করেছিল, তখন এই কর্নেল গুলজার তার চৌকস পরিকল্পনা দিয়ে পুরো জেএমবি নেটওয়ার্ককে তছনছ করে দিয়েছিলেন। শীর্ষ জঙ্গি শায়খ আবদুর রহমানকে সিলেটের ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ থেকে বিনা রক্তপাতে তার ইন্টেলিজেন্স দ্বারা আটক করেন তিনি; যদিও তার ওপর নির্দেশ ছিল পুরো বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার।
আন্তর্জাতিক মিডিয়া জঙ্গি দমনে তার এই অপরিসীম দক্ষতার প্রশংসা করেছিল।
শুধু তাই নয়, বাংলাভাইকে আটক করার সময় তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী যখন উদ্বেগে ফোন করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন— “তোমার সাহস তো কম না! তুমি আমাকে নিষেধ করছ দেশের মানুষকে বাঁচাতে?
তোমাদের জন্য আল্লাহ আছেন, আমার জন্যও আছেন। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে!”
বিডিআর-এ (বর্তমানে বিজিবি) যোগদানের মাত্র ১০ দিনের মাথায় পিলখানা ট্র্যাজেডিতে তিনি শহীদ হন। তার সাথে সৈনিকদের কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ থাকার সুযোগই ছিল না। অথচ হত্যাকাণ্ডের ১১ দিন পর নর্দমা থেকে তার দেহটি সবচেয়ে বিকৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা তার সন্তান শনাক্ত করেছিল।
৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই ভূমিতে অনেক সেনা অফিসার তৈরি হবে, কিন্তু দ্বিতীয় কোনো ‘গুলজার’ তৈরি হবে না। গুলজার গুলজারই।