মৃত্যুকে ছয়বার হারানো মানুষটি কি তাহলে শেষ পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রে নিহত !?
🇧🇩 মোঃ সাইফুদ্দিন জিয়া, সম্পাদক ও প্রকাশক, রেড বাংলা নিউজ 🇧🇩
Update :
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
Share
মোঃ সাইফুদ্দিন জিয়া
সম্পাদক ও প্রকাশক
রেড বাংলা নিউজঃ
মৃত্যুকে ছয়বার হারানো মানুষটি শেষ পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রে নিহত !? কে এই খামেনি !? কেন তাকে সরাতে মরিয়া ছিল আমেরিকা-ইসরায়েল ?
মৃত্যু যেন তাকে ছুঁতেই পারত না। হত্যাচেষ্টা, ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ, যুদ্ধ—সবকিছু পেরিয়ে বারবার ফিরে এসেছিলেন তিনি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়ে যৌথ হামলায় প্রাণ হারালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
১৯৩৯ সালে মাশহাদ শহরে জন্ম নেওয়া এক সাধারণ ধর্মীয় ছাত্র কীভাবে হয়ে উঠলেন বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর নেতা—তার গল্প যেন রীতিমতো থ্রিলার সিনেমা। ইরানের রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়ে বহুবার গ্রেপ্তার হন, নির্বাসনেও যেতে হয় তাকে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে যখন রাজশাসনের পতন ঘটে, তখনই শুরু হয় তার দ্রুত উত্থান। ১৯৮১ সালে এক ভয়াবহ বি*স্ফোরণে প্রায় মৃত্যুর মুখে পড়ে যান তিনি। সেই হামলায় তার ডান হাত প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
অনেকে ভেবেছিল এখানেই শেষ—কিন্তু না, হাসপাতাল থেকে ফিরেই আরও শক্ত হাতে ক্ষমতা দখলের পথে এগিয়ে যান।
***( ইরান-ইরাক যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় নায়ক )***
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর দেশের সর্বোচ্চ নেতা হন খামেনেই—এবং তারপর টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনিই ছিলেন ইরানের প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্র। কিন্তু কেন তাকে সরাতে এত মরিয়া ছিল আমেরিকা ও ইসরায়েল? কারণ হিসেবে উঠে আসে—
🔹 ইরানের পরমাণু কর্মসূচি 🔹 মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার 🔹 হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের প্রতি সমর্থন 🔹 যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান 🔹 পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ
শেষ পর্যন্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় থেমে গেল এক যুগের অধ্যায়।
তার মৃত্যুর পর এখন প্রশ্ন—ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্য কি বদলে যাবে? মধ্যপ্রাচ্যে কি নতুন সংঘাতের সূচনা হতে যাচ্ছে?
ইতিহাসে খুব কম মানুষই আছেন, যাদের জীবন এতটা নাটকীয় এবং বিতর্কিত।
খামেনেই ছিলেন ঠিক তেমনই এক চরিত্র—কেউ তাকে নায়ক মনে করে, কেউ আবার ভয়ংকর শাসক।