🇧🇩 মোঃ মেহেদী হাসান শান্ত, জেলা প্রতিনিধি, রেড বাংলা নিউজ 🇧🇩
Update :
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
Share
*রেড বাংলা নিউজ*
আলাল আটকে আছেন
কাগজে ৩৫৭ মামলা
২১৭৩ দিনের কারাবাস।
কাগজের ওজন মাপার কোনো দাঁড়িপাল্লা নেই। কিন্তু কিছু কাগজ আছে, যেগুলো মানুষকে ধীরে ধীরে চেপে ধরে। নামের ওপর জমতে থাকা সেই কাগজের স্তূপই হয়ে ওঠে জীবনের ভার।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের জীবনে ঠিক সেটাই ঘটেছে। শরীরের ওজনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মামলার বোঝা।
সংখ্যাটা ৩৫৭। অঙ্কের খাতায় লিখলে সহজ। কিন্তু বাস্তবে এই ৩৫৭ মানে ৩৫৭টি আলাদা দিন, স্থানও আলাদা। তাই আলাদা হাজিরা মানে আলাদা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতা। কখনো ঢাকা, কখনো দেশের অন্য প্রান্ত। একটার পর একটা মামলা যেন নিয়মিত শরীরের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগ শাসনামলের টানা ১৭ বছরে প্রায় ছয় বছর কেটেছে তাঁর কারাগারে। দুটি মামলায় সাড়ে তিন বছরের সাজাও খাটতে হয়েছে। ঢাকার বাইরে অন্তত ২৭টি জেলা শহরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রাজনৈতিক হয়রানির এই বিস্তার শুধু আদালতকেন্দ্রিক ছিল না; ছিল চলাফেরা, পরিবার আর ব্যক্তিগত জীবনের ওপর এক দীর্ঘ চাপ।
চাকুরীতে না গিয়ে রাজনীতিতেঃ
১৯৮২ সালে বিসিএস পাস করে ফরেন ক্যাডারে সুযোগ পেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু তিনি সেই পথে যাননি। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আর পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন আইন। মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর জায়গা হিসেবে আদালতই ছিল তাঁর কর্মক্ষেত্র।
সময়ের কী নির্মম পরিহাসে, সেই আদালতেই তাঁকে দাঁড়াতে হয়েছে এজলাসে। তবে আইনজীবীর গাউন নয়, কাঁধে ছিল মামলার ভার। আর শরীরে চাপানো ছিল কয়েদীর পোশাক। এভাবে কেটেছে দুই হাজার ১৭৩ দিনের জেলজীবন।
হাজিরার প্রস্তুতি নিয়েই আলালের সকাল শুরু হতো।
ছুটির দিনে জেলখানায়, অপর দিনগুলোতে আদালতই ছিল ঠিকানা। ফাইলের পর ফাইল, মামলার নম্বর, তারিখের হিসাব মিলিয়ে গিয়ে দেড়যুগ কেটে গেছে। এক পাশে শরীর, অন্য পাশে মামলা। ভারসাম্য একটু নড়লেই জীবন এলোমেলো।
৩৫৭ মামলা
আলাল বলেন, ঢাকাসহ অন্তত ২৮টি জেলা শহরে তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো হয়েছিল।
সরকার পরিবর্তনের পর অধিকাংশ মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে এখনো দেশের বিভিন্ন জেলায় অনেকগুলো চলমান। নিয়মিত হাজিরা দিতে তাঁকে ছুটতে হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
এই মামলাগুলো শুধু আইনি জটিলতা ছিল না।
ছিল রাজনৈতিক চাপ,চলাচলের সীমা আর ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষয়।