• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
  • Bangla Version
Headline
ডিবির হাতে রবিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়িতে আলোচিত হত্যা মামলার আসামি সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম । বিচারকদের ডিউটি আর কর্মঘণ্টা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান। ঝালকাঠির সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসা। ঝালকাঠি পৌরসভার পানি সুপার কামরুল ইসলামের দায়িত্বে অবহেলায় পানির অভাবে এলাকাবাসী। তুরাগ নদী থেকে তাহসিফ সৌরির মৃতদেহ উদ্ধার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে । সরাইল থানার ওসিকে নোটিশ। ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ । ঝালকাঠিতে মব সৃষ্টি করে কৃষককে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল সন্ত্রাসী এলিনের বিরুদ্ধে। বরিশালে ১৫ পিস ইয়াবা সহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার । মোবাইল কাপড়-চোপড় টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয় !

স্বাস্থ্য প্রকৌশল মানেই হলো দুর্নীতি ও অপরাধের স্বর্গরাজ্য ।

🇧🇩 Md.Sifuddin Zeya, Editor and Publisher, Red Bangla News 🇧🇩
Update : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

 

 

     কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল     দপ্তরের নাটকীয় যৌন-হয়রানির রহস্য ******। 

 

 

 

         মোঃ সাইফুদ্দিন জিয়া 

            সম্পাদক 

      রেড বাংলা নিউজ। 

    সাংবাদিক-কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

          তারিখঃ ২৫/০৫/২৬ ইং । 

​

 

     কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী তাজমিনা আক্তারের কান্নায় ভেজা এক অভিযোগের ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ঘুরপাক খাচ্ছে। দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন। কিন্তু এই কান্নায় ভেজা নাটকীয়তার আড়ালে আসলে কী লুকিয়ে আছে?

 

 

 

   দীর্ঘ ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে সাংবাদিকতা চর্চা করার সামান্য অভিজ্ঞতার আলোকে এবং আন্তর্জাতিক মনস্তাত্ত্বিক ও সাংবাদিকতার কিছু যুক্তি দিয়ে আপনাদের সামনে আসল সত্যটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি; একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন।

 

 

​     প্রথম ভিডিওতে দেখা গেল, সাংবাদিকদের সামনে ওই নারী অভিযোগ করছেন যে, প্রকৌশলী আবুল খায়ের নাকি তাকে রুমে ডেকে নিয়ে তার স্তনে স্পর্শ করেছেন। এই কথা বলার সময় ক্যামেরার সামনে তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ (Body language) ছিল বেশ নাটকীয়তায় ভরা; তিনি কান্নাকাটি করছেন, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ভান করছেন, যেন এখনই জ্ঞান হারাবেন ।  অথচ, এর ঠিক কিছু সময় পরেই ভাইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সেখানে তথাকথিত এই ভুক্তভোগী নারী এক অদ্ভুত মুড সুইং (Mood swing) ঘটিয়ে একেবারে সুস্থ মাথায়, অত্যন্ত সাবলীল ও সুন্দরভাবে গুছিয়ে কথা বলছেন।

 

 

 

   মানুষের মুখের অভিব্যক্তি এবং মিথ্যা ধরার বিশ্বসেরা আমেরিকান আচরণগত বিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানী Paul Ekman (পল একম্যান) তাঁর ১৯৭০ ও ১৯৮০-র দশকের যুগান্তকারী গবেষণা এবং অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিখ্যাত মনোবিজ্ঞানের জনক Sigmund Freud (সিগমুন্ড ফ্রয়েড) তাঁর ১৮৯৯ ও ১৯০০ সালের অবচেতন মনের মনস্তাত্ত্বিক আচরণগত তত্ত্ব অনুযায়ী দেখিয়েছেন—মানুষ যখন হুট করে চরম কোনো মানসিক ট্রমা বা শ্লীলতাহানির শিকার হয়, তখন তার মস্তিষ্ক হিসাব কষে সেকেন্ডের মধ্যে একদম স্বাভাবিক ও সাবলীল আচরণে ফিরে আসতে পারে না। যদি কেউ তা পারে, তবে বিজ্ঞান বলে আগের আচরণটি হয়তো সম্পূর্ণ সচেতনভাবে সাজানো সাইকোলজিক্যাল ম্যানিপুলেশন (Psychological Manipulation) বা একটি মেক বিলিভ ড্রামা (Make-believe drama) ছিল। তাজমিনা আক্তারের এই দ্বিমুখী আচরণই হয়তো ইঙ্গিত করে যে, তাঁর কান্নাটা সুপরিকল্পিত কোনো নাটকের অংশ।

 

 

 

    ​তাছাড়া তাজমিনা আক্তার ওই দপ্তরে আজ বা গতকাল যোগ দেননি, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে (২০১৬ সাল থেকে) তিনি এই কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে চাকরি করছেন। যে কর্মকর্তা তাকে এত বছর ধরে স্পর্শ করার সাহস পাননি বা করেননি, হুট করে আজকে কেন তিনি এই কাণ্ড ঘটাতে যাবেন?

 

 

     দীর্ঘ এক দশক চাকরি করার সুবাদে অফিসের পরিবেশ তার অজানা থাকার কথা নয়। এত বছর পর হঠাৎ এই অভিযোগ তোলাটাই হয়তো প্রমাণ করে যে, এর পেছনে কোনো গভীর কোনও (Motive) কাজ করছে।

 

 

​    এখানে আরও একটি বড় বিষয় হলো টাইমিং। বর্তমানে বাংলাদেশে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনা নিয়ে পুরো দেশ উত্তাল। দেশের মানুষের পাবলিক সেন্টিমেন্ট (Public sentiment) এখন নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তুঙ্গে।

 

 

   আমাদের দেশের মানুষ সাধারণত অতি আবেগী এবং চলমান কারেন্ট ট্রেন্ড (Current trend) বা স্রোতের পক্ষে দ্রুত রায় দিয়ে দেয়। অভিযোগকারী নারী হয়তো ঠিক এই সময়টাকেই বেছে নিয়েছেন।

 

 

   ফ্রান্সের বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ও সামাজিক মনোবিজ্ঞানী Gustave Le Bon (গুস্তাভ লে বঁ) তাঁর ১৮৯৫ সালের বিশ্ববিখ্যাত ‘The Crowd’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন, সমাজ যখন কোনো নির্দিষ্ট বড় ইস্যুতে উত্তাল থাকে, তখন চতুর ব্যক্তিরা সেই আবেগকে পুঁজি করে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা কাউকে ফাঁসাতে চায়। কারণ তারা জানে, এই মব মেন্টালিটি (Mob mentality) এবং সোশ্যাল মিডিয়া হাইপ (Social media hype)-এর যুগে মানুষ আবেগ দিয়ে অন্ধের মতো বিচার করবে, সত্য-মিথ্যার যুক্তি দেখবে না। তাজমিনা আক্তারও হয়তো ঠিক এই মনস্তাত্ত্বিক সুযোগটাই নিতে চেয়েছেন।

 

 

​  তবে ভিডিওতে কিছু সচেতন সাংবাদিকের তীক্ষ্ণ কাউন্টার কোশ্চেন (Counter-question)-েই আসল সত্যটা পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে বলে মনে হয়।

 

 

   সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—”আমরা তো শুনেছি আপনার বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে?” এই একটি প্রশ্নই হয়তো পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

 

 

   আমেরিকার বিখ্যাত ১৯৭২ সালের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ফাঁসকারী ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকার বিশ্বখ্যাত দুই অনুসন্ধানী সাংবাদিক Bob Woodward (বব উডওয়ার্ড) এবং Carl Bernstein (কার্ল বার্নস্টাইন) তাঁদের সাংবাদিকতার নীতিমালায় দেখিয়েছিলেন, কোনো ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে হলে শুধু অভিযোগকারীর মুখের কথা শুনলে হবে না, দেখতে হবে এই ঘটনার নেপথ্যে আর্থিক বা ক্ষমতার কোনো হিডেন এজেন্ডা (Hidden agenda) লুকিয়ে আছে কি না।

 

 

​  স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোটি কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ আর অবৈধ সুবিধা আদায়ের একটি বড় সিন্ডিকেট দীর্ঘদিনের। বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী হয়তো একজন সৎ কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি সম্ভবত এই উচ্চমান সহকারীর কোনো অবৈধ ফাইল বা টেন্ডার সংক্রান্ত অনৈতিক তদবিরে সায় দেননি।

 

 

  নিজের ভাগে সুবিধা না পেয়ে, প্রকৌশলীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়ে এবং বায়না পূরণ না হওয়াতেই হয়তো চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এই নারী। আর তারই চূড়ান্ত প্রতিশোধ হিসেবে এবং প্রকৌশলীকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল (Emotional blackmail) করার উদ্দেশ্যে এই ‘যৌন হয়রানির’ হাতিয়ার ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে; যেন সৎ অফিসারের ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন (Character assassination) বা চরিত্র হনন করে তাকে লাইনে আনা যায়।

 

 

​   একজন সরকারি কর্মকর্তার ক্যারিয়ার এবং সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের লাগামহীন ঘুষ বানিজ্য এবং দুর্নীতি বন্ধ না করলে এভাবেই অধস্তনের হাতে শেষ হয়ে যাওয়া সময়ের ব্যপার মাত্র। প্রথম দৃষ্টেই যে এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট (Fabricated) ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কল্পকাহিনী বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু তা সাধারণ মানুষও একটু ফ্যাক্ট চেক (Fact check) বা চিন্তা করলে বুঝবেন। এখন বিষয় হলো ঘুষ এবং দুর্নীতি করলে তো নিম্ন কর্মচারীদের কাছে ওয়েটলেস এবং ব্যক্তিত্বহীন হিসেবে মান সন্মান আশা করা উচিৎ নয়। 

 

 

  আশা করা যায়, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এই টেন্ডার বাণিজ্যের লিংক এবং ওই নারীর দ্বিমুখী আচরণের মনস্তাত্ত্বিক দিকটি খতিয়ে দেখবেন।

 

 

    পাঠকদের সুচিন্তিত   মতামত আশা করছি।

 

 

 

       🇧🇩 রেড বাংলা নিউজ 🇧🇩

 


More News Of This Category