শহীদ ওসমান বিন হাদীর “স্ত্রী” আজকে এক ফেসবুক স্টাটাসে বলেন।
ওসমান হাদির হ/ত্যা/র বিচার কি আদৌ হবে?
আর যদি হবে—তবে এত দেরি কেন?
ইনকিলাব মঞ্চ আজ কেন কোনো কর্মসূচির ডাক দিচ্ছে না—এই প্রশ্নও স্বাভাবিক।
প্রথমেই পরিষ্কার করে বলা দরকার—
“বিচার হবে না”—এই শব্দটাই আমাদের অভিধানে থাকার কথা নয়।
বিচার হতেই হবে, যেকোনো মূল্যে।
কারণ বিচার আদায় না হলে এই দেশে
া ওসমান হাদিরা, বিপ্লবী বীরেরা
আর জন্মানোর সাহস পাবে না।
তবু প্রশ্ন থাকে—এত সময় লাগছে কেন?
এক অনুষ্ঠানে ওসমান হাদি রবীন্দ্রনাথের দুটি লাইন বলেছিলেন—
“সহজ করে বলতে আমায় কহ যে,
সহজ কথা যায় না বলা সহজে।”
এই লাইনটাই হয়তো আমাদের বাস্তবতার সারকথা।
তাই আজ যুক্তি, তর্ক, ব্যাখ্যা টানছি না।
আপনি জানেন, আমিও জানি—
কেন সবকিছু সহজে হচ্ছে না।
শুধু এটুকু মনে রাখুন—
ওসমান হাদি নিজেই বলে গিয়েছেন,
আমাদের লড়াই দীর্ঘ।
মুমিনের জীবন মানেই লড়াই ও সংগ্রাম।
এই সংগ্রাম থামানো যায় না।
ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে শহীদ ওসমান হাদির নিজের কিছু কথা মনে করিয়ে দিই—
“আমার প্রথম সন্তান ইনকিলাব মঞ্চ,
দ্বিতীয় সন্তান ফিরনাস।
পোলাপানগুলারে বেতন দেই না,
ঠিকভাবে খাবারও খেতে পারে না কাজের জন্য।
নিঃস্বার্থভাবে আমার সঙ্গে লেগে থাকে।
ওদের ভবিষ্যতের চিন্তাও ওদের নাই।
আমার তো ওদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে হবে, ডিয়ার।”
যারা শুধু ভিডিও দেখে, কথা শুনে
ওসমান হাদিকে ভালোবাসেন, দোয়া করেন, কাঁদেন—
একবার ভাবুন,
এই ভাই–বোনগুলোর মনের অবস্থা কী এখন?
যাদের কাছে হাদি ছিল
২৪ ঘণ্টার ছায়ার মতো—
তারা আজ কোন বাস্তবতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে?
হাদি বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন—
“আমার ব্যাপারে যা বলার বলেন,
কিন্তু আমার ইনকিলাব মঞ্চের ভাই–বোনদের নিয়ে
অবহেলা করবেন না—
আমি সেটা সহ্য করবো না।”
ওসমান হাদির রেখে যাওয়া কথাই আমাদের পথনির্দেশ—
“দাসত্বই যে জমিনের নিশ্চল নিয়তি,
লড়াই-ই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত।”
— শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
সংগ্রাম চলবে।