প্রেসিডেন্ট মুরসি’র পতনের জন্য কি ? — মিশরের স্বার্থবাজ জনগন মোটেই দায়ী নয় !!!???
🇧🇩 মোঃ সাইফুদ্দিন জিয়া, রেড বাংলা নিউজ 🇧🇩
Update :
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
Share
কারাগারে মুরসি পবিত্র কুরআন চেয়েছিলেনকর্তৃপক্ষ তাকে কুরআন দেননি।
তখন তিনি বলেছিলেন- ‘ওরা আমাকে কুরআন দেয়নি। কিন্তু ওরা তো জানে না, আমি ৪০ বছর আগেই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেছি শুধু কুরআনকে একটু স্পর্শ করতে চেয়েছিলাম’। প্রশাসন আমাকে কারারুদ্ধ করেই ক্ষান্ত হয় নাই! আমার উপরে প্রতিদিন নির্যাতন চালিয়েছে।আল্লাহ ছাড়া কেউই জানে না এই বর্বর জুলুমের শেষ কোথায়। আমার আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে অবহিত আছেন। খেয়ানতকারীদের উদ্দেশ্যে আমি বলবো ‘হাসবুনাল্লাহ, নি’মাল ওয়াকিল। —————- তিনি ছিলেন মিশরের ইতিহাসে একমাত্র নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার পর মুরসি বলেন- আমি ভাড়া বাসা থেকে সরকারি ভবনে এসেছি, আমার পকেটে কোনো পয়সা নাই। আমি যখন চলে যাবো তোমরা তখন আমাকে পরীক্ষা করে দেখবে এর চেয়ে বেশি কিছু আমার কাছে পাও কি না? যদি পাও তবে ভেবো আমি খেয়ানত করেছি ।
তিনি ছিলেন কুরআনের হাফেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান,শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলি ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীল নেতা। ক্ষমতায় এসেই মিশরকে উন্নত কারার বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। যেগুলো শত্রুদের চোখে ছিলো মারাত্মক ‘ভুল’। যে কারণেই তাকে অপসারণ করা হয়-
🔴সুয়েজ খালের উন্নয়নে তিনি বিরাট অংকের বাজেট নির্ধারণ করেন। যেটা বাস্তবায়ন হলে ২০২২ সালের মধ্যে মিশরের আয় ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। তখম মিশর হবে পৃথিবীর উন্নত দেশ সমূহের একটি। আর এটা হলে আরব দেশগুলোতে আমেরিকার মাতাব্বরী আব্বাগিরি খাটানো কঠিন হবে।
🔴তিনি ক্ষমতায় যেয়েই সিনাই উন্নয়ন কাজ শুরু করেন সিনাই এ আছে মিশরের ৩১% ভূমি। এর কোন উন্নয়ন এতদিন হয়নি। এই ভূখন্ড উন্নত হলে মিশরে ইনকাম হবে দ্বিগুণে। চাকুরির সুযোগ পাবে হাজার হাজার বেকার।উত্তর ও দক্ষিনে ইউনিভার্সিটি মেক করার প্লান করেন যা ছিলো ইয়াহুদিদের সিনাই দখলের প্রস্তুতি। এতো বড় কাজের সাহস তার আগে কেউ দেখায়নি।
🔴শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবার জন্য তিনি প্রাথমিক, সেকেন্ডারি এবং হাইয়ার সেকেন্ডারি লেভেলগুলোতে পাশ্চত্য সিলেবাস বাতিল করার পদক্ষেপ নেন। শুধু তাই নয় পাশ্চত্যের মানের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থার নির্দেশ দেন তিনি। যাতে মিশরের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রাধান্য থাকতো বেশি। এটা বাস্তবায়ন হলে দেখা যেতো ওখানে নিয়োজিত হাজারো আমেরিকান ও পশ্চিমা শিক্ষক ও উপদেষ্টাদের ছাঁটাই করতে হবে এটা মারাত্মক পদক্ষেপ যা বিদেশি বেনিয়াদের ক্ষেপিয়ে তোলে।
এরকম কিছু সৎ ও সাহসী পদক্ষেপের কারনেই এক বছর যেতে না যেতেই মুরসি সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদুল ফাত্তাহ সিসি মুরসির বিরুদ্ধে অনাস্থা জানান। মূলত সিসি ছিল ইয়াহুদীদের এজেন্ট।
অন্যদিকে মুরসি ছিলো ইয়াহুদিদের শত্রু। ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে ভাষন ও ফিলিস্তিনের পক্ষে পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন- ‘এখন আর ফিলিস্তিনিরা একা নও।তোমরা সাহস হারিওনা।” হে মুসলমান ভাইয়েরা, আমরা যেন কখন ভুলে না যাই, আমাদের সন্তান ও নাতিদের ইহুদি, ইহুদিবাদী ও তাদের সমর্থনকারীদের ঘৃণা করতে। তাদের অবশ্যই শিক্ষা দিতে হবে ওদের ঘৃণা করার জন্য। এবং এই শিক্ষা বংশ পরম্পরা চালাতে হবে।
▪️মুরসি ক্ষমতায় আসার পর ইসরাইলিরা অভিযোগ করতে থাকে, মুরসি হচ্ছে হাসানুল বান্নাহর হুবুহু অনুসারী। হাসানুল বান্না যেমন ছিলেন ইসরাইলের অস্তিত্বের বিরোধী, ঠিক তেমনি মুরসিও হলো ইসরাইলের অস্তিত্বের বিরোধী তাকে সরিয়ে দিতে সৌদি ঢেলেছে অর্থ, দুবাই ঢেলেছে সোনা, আর আমেরিকা-ইসরাইল সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে দিয়ে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে এক বছরের মাথায় মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে গ্রেফতার করে। জেনারেল সিসি মূলত ইসরাইলের দালাল।
২০১১ তে আরব বসন্তের মাধ্যমে হোসনি মুবারক ক্ষমতা থেকে নেমে যায়।এটা ছিলো আমাদের জুলাই আন্দলোন এর মতো সর্ববৃহৎ একটা আন্দলোন। এই আন্দোলন থেকেই ৫০ শতাংশ ভোটে বিজয়ী হয়ে ২০১২ সালের জুনে মিসরের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন মোহাম্মদ মুরসি।
কিন্তু ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি এতো এতো প্লান করেন এবং বাস্তবায়নের রুপ রেখা আকেন যে তা দেখে আমেরিকা আব্বারা চোখে সর্ষে ফুল দেখেন।
হোসেনি ক্ষমতা থেকে চলে গেলেও প্রশাসনের আনাচে কানাচে তার সমর্থকরা লুকিয়ে ছিলো। নানা প্রোপাগান্ডা চালাতে ব্যাস্ত ছিলো।
এটা বুঝে হোসনি মোবারক আমলের সেনা অফিসারদেরকে বিচারের মুখোমুখি করতে চেষ্টা করেছেন তিনি। এতে সেনাবাহিনী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে তার উপর।
এবং মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার সব ক্ষেত্র সৃষ্টি করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জনগণের দাবি মানার সময় বেঁধে দিয়ে সেনাবাহিনী ও নতুন প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি মিলে মুরসিকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে তাদের ওপর চালানো হয় ব্যাপক নিপীড়ন এবং ফল হিসেবে হাজার হাজার ব্রাদারহুড কর্মী গ্রেপ্তার বা নিহত হন। অনেকে কাতার এবং তুরস্কে পালিয়ে যান
▪️২০১৫ সালে যথাক্রমে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সেই বন্দি অবস্থায় ছয় বছর পর তার মৃত্যু হয়।২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিসহ মুসলিম ব্রাদারহুডের আরো ৮৮ সদস্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দিয়েছে দেশটির আদালত। মিশরের আদালত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা কোষাগারে জমাদানের নির্দেশ দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মুরসির মৃত্যুর পরেও তাঁর থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পরিবারের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।
যে যা করবে সে তার ফল পাবে।আপনার কাজ হলো আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলা।অন্তত এমন কিছু রেখে যাওয়ার চেষ্টা করেন যেন আগামীর সন্তানেরা আমেরিকার দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে পারে। তারা যেন পরাজিত সৈনিকের কাতারে না দাঁড়ায়।